পায়ের গোড়ালি ফাটা বন্ধ করার একমাত্র সহজ উপায়

পায়ের গোড়ালি ফাটা বন্ধ করার একমাত্র সহজ উপায়

শীতকাল মানেই পা ফাটার সমস্যা শুরু। কেবল ভুক্তভোগীই জানেন কি অসহ্য যন্ত্রণা হয়ে থাকে ফাটা পায়ে। অনেকেই অনেক ধরনের ক্রিম ব্যবহার করে থাকেন এই পা ফাটা নিরাময় করতে। কিন্তু কেমিকেল সমৃদ্ধ ক্রিমে প্রাথমিক ভাবে কিছুটা ঠিক হলেও পরবর্তীতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সহ সমস্যা শুরু হয় আবার।

আপনি যদি ফাঁটা গোড়ালির সমস্যায় ভুগছেন, তাহলে আগে ভেবে দেখুন আপনি কী খান।সুন্দর গোড়ালির জন্য দরকার আপনার সঠিক স্বাস্যসম্মত খাওয়া দাওয়া। এই সমস্যার হাত থেকে রেহাই পেতে আপনার খাবারে অবশ্যই জিন্ক,ওমেগা-৩ ফ্যাটি এ্যাসিড,ভিটামিন ই,ক্যালসিয়াম ও লোহা থাকা উচিত। খুব সহজেই কিছু ঘরোয়া পদ্ধতিতে ফেটে চৌচির হওয়া পায়ের গোড়ালি হয়ে উঠবে নরম আর মসৃণ!

কেন পা ফাটে

পুরো শরীরের মধ্যে পা ও এর তলা সবচেয়ে শুষ্ক। কেননা দেহের অন্যত্র ত্বকের মাঝে তৈলগ্রন্থি থাকলেও পায়ের তালুতে তা নেই। কেবল ঘর্মগ্রন্থি আছে। ঠান্ডার দিনে ঘামও তেমন হয় না বলে পায়ের তলার আর্দ্রতা সহজে বিনষ্ট হয়। ফলে পা শুষ্ক হয়ে পড়ে ও ত্বক ফেটে যায়।

পা যখন ফাটে, তখন ত্বক লাল হয়ে যেতে পারে, চুলকাতে পারে। এমনকি পায়ের ত্বক খোসার মতো উঠে গিয়ে ঝরে পড়তে পারে। কখনো রক্তাক্ত হতে পারে, ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে।

আরো পড়ুন:  ঠোঁট ফাটা থেকে মুক্তির সহজ উপায়

কারা বেশি ঝুঁকির মধ্যে?

শীতকালে যেকোনো মানুষেরই পা ফাটে, কিন্তু কারও কারও এই সমস্যা খুব বেশি প্রকট হয়ে দেখা দিতে পারে। যেমন: যাঁদের থাইরয়েডে সমস্যা আছে, তাঁদের এমনিতেই ত্বক খুব শুষ্ক থাকে, একই কথা ডায়াবেটিসের রোগীদের বেলায়ও প্রযোজ্য। ডায়াবেটিসে স্নায়ুজনিত সমস্যায় পায়ের আর্দ্রতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অনুভূতিতেও সমস্যা দেখা দেয়। তাই অনেক সময় পায়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়ে ঘা বা গ্যাংগ্রিন পর্যন্ত হতে পারে। যাঁদের সোরিয়াসিস, অ্যাকজিমা বা কোনো চর্মরোগ আছে, তাদের পায়ে সমস্যা বেশি হয়। বয়স্ক ব্যক্তিদের পা ফাটার সমস্যা বেশি।

পায়ের গোড়ালি ফাটা বন্ধ করার একমাত্র সহজ উপায়

ঘরোয়া পদ্ধতিতে পায়ের গোড়ালি ফাটা বন্ধ করার একমাত্র সহজ উপায়:

(১) পা নিয়মিত পরিষ্কার করুন।

(২) পা ধোয়ার সময় গরম (কুসুম) পানি ব্যবহার করুন।

(৩) খালি পায়ে বাইরে যাবেন না।

(৪) নরম জুতা বা স্যান্ডেল ব্যবহার করুন।

(৫) রাতে পায়ে মোজা পরে শোবেন যাতে পায়ে ঠাণ্ডা না লাগে।

আরো পড়ুন: ঠোঁট ফাটার প্রতিরোধে জেনে নিন কি কি

গোলাপজল ও গ্লিসারিন – পা ফাটা রোধে গ্লিসারিন ও গোলাপজলের মিশ্রণ খুব কার্যকর। গ্লিসারিন ত্বক নরম রাখে। অন্যদিকে গোলাপজলে রয়েছে ভিটামিন এ, বি৩, সি, ডি ও ই। আরও রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিসেপটিক উপাদান। একটি বোতলে সমপরিমাণে গ্লিসারিন ও গোলাপজল মিশিয়ে রেখে দিন। রোজ রাতে ঘুমানোর আগে পায়ে ম্যাসাজ করুন।

অয়েল ম্যাসাজ : প্রথমে পা পরিষ্কার করে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। তারপর গোড়ালির ফেটে যাওয়া জায়গায় অলিভ অয়েল/নারিকেল তেল লাগিয়ে একজোড়া মোটা মোজা পরে সারারাত রেখে দিতে হবে। সকালবেলা কুসুম গরম পানি দিয়ে পা ধুয়ে নিলেই গোড়ালির ফাটল কমে আসবে। গোসলের পর এ ম্যাসাজ অনেক কার্যকরী।

চালের গুঁড়া – আধকাপ চালের গুঁড়া, এক চা-চামচ মধু ও এক চা-চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার একসঙ্গে মিশিয়ে পায়ে ম্যাসাজ করুন। খুব বেশি ফাটা হলে কয়েক ফোঁটা নারকেল তেল মেশাতে পারেন।

পায়ের গোড়ালি ফাটা বন্ধ করার একমাত্র সহজ উপায়

ভ্যাসলিন ও লেবুর রসের প্যাক : গোড়ালি পরিষ্কার করে ধুয়ে শুকিয়ে নিয়ে হালকা গরম পানিতে ১৫ মিনিট পা ভিজিয়ে পিউমিক স্টোন দিয়ে ঘষে ধুয়ে ফেলতে হবে। তারপর ১ টেবিল-চামচ ভ্যাসলিন ও ১ টেবিল-চামচ লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে এই মিশ্রন শুকনো পা ও গোড়ালির ফেটে যাওয়া স্থানে ত্বক শুষে না নেওয়া পর্যন্ত ঘষতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker